সম্প্রতি বস্ত্র খাতের কোম্পানি দুলামিয়া কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ছে। এ দরবৃদ্ধির পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইতে গত ১৩ জুলাই দুলামিয়া কটনের শেয়ারদর ছিল ৭৫ টাকা। সর্বশেষ গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১০০ টাকা ৭০ পয়সায়। এ সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৩৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) দুলামিয়া কটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩০ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১৬ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ৮৪ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে দুলামিয়া কটনের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৮ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে দুলামিয়া কটনের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৩৯ টাকা ২০ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে দুলামিয়া কটনের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা ৫১ পয়সায়।
তিন দশকের বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত দুলামিয়া কটন সুতা উৎপাদন করে, যা মূলত স্থানীয় বস্ত্রশিল্পেই ব্যবহার হয়। মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজারে আসে ১৯৮৯ সালে। কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৩০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০। এর ৩৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৭১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।